মূল কন্টেন্টে যান
পস ও স্টক 24 আগস্ট 2026 · ৮ মিনিট পড়া

পণ্যে বারকোড যোগ করে বিলিং দ্রুত করবেন যেভাবে

ছোট দোকানে বিল দ্রুত করতে Tukri-তে প্রতিটি পণ্যের বারকোড যোগ করুন, তারপর ইউএসবি স্ক্যানার বা ফোনের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে সঙ্গে সঙ্গে আইটেম তুলুন।

পণ্যে বারকোড যোগ করে বিলিং দ্রুত করবেন যেভাবে

ছোট দোকানে বিলিং দ্রুত করতে পণ্যের বারকোড Tukri-তে সেভ করুন, তারপর ইউএসবি স্ক্যানার বা ফোনের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলে আইটেম সঙ্গে সঙ্গে কার্টে চলে আসে; Tukri হলো বাংলাদেশের জন্য বানানো মোবাইল-ফার্স্ট POS ও স্টক অ্যাপ।

ব্যস্ত মুদি দোকান বা ফার্মেসিতে এর দরকার সবচেয়ে বেশি বোঝা যায় ভিড়ের সময়ে। দোকানদাররা সাধারণত দেখেন, ফাঁকা সময়ে নাম লিখে আইটেম তোলা চলে, কিন্তু সন্ধ্যার ভিড় বা অফিস ছুটির পরে স্ক্যান করলে কাজ দ্রুত হয়, ভুলও কম হয়। একই রকম অনেক পণ্য, ওষুধের আলাদা শক্তি, বা একই জিনিসের নানা সাইজ-রং থাকলে বারকোড ভুল বিল কমায়।

পণ্যে বারকোড কীভাবে যোগ করব?

সহজ নিয়ম হলো: যেটা আলাদা করে বিক্রি করেন, সেটার আলাদা বারকোড এন্ট্রি থাকা উচিত। Tukri-তে পণ্যের নাম, SKU, বারকোড, ক্যাটাগরি, ইউনিট, ক্রয়মূল্য আর বিক্রয়মূল্য রাখা যায়। ভ্যারিয়েন্ট থাকলে প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টের আলাদা দাম, বারকোড আর স্টকও রাখা যায়।

ছোট দোকানে কাজের সেটআপ সাধারণত এমন হয়:

১. Tukri-তে পণ্য তৈরি করুন। ২. পণ্যের নাম পরিষ্কারভাবে লিখুন, যাতে দরকার হলে খুঁজেও পাওয়া যায়। ৩. নিজের আইটেম কোড থাকলে SKU দিন। ৪. প্যাকেটে ছাপা বারকোডটি দিন। ৫. বিক্রয়মূল্য, ক্রয়মূল্য, ক্যাটাগরি আর ইউনিট সেভ করুন। ৬. ভ্যারিয়েন্ট পণ্য হলে প্রতিটি সাইজ বা রঙ আলাদা করে দিন, সঙ্গে আলাদা বারকোড।

কাউন্টারের বাস্তব উদাহরণ:

  • ফার্মেসিতে একই ব্র্যান্ডের ওষুধ আলাদা শক্তিতে থাকে। প্যাকেটের বারকোড আলাদা হলে প্রতিটির রেকর্ডও আলাদা হওয়া দরকার।
  • কাপড়ের দোকানে একই টি-শার্ট মিডিয়াম, লার্জ, এক্সট্রা লার্জে বিক্রি হলে প্রতিটি সাইজের আলাদা বারকোড আর স্টক রাখা উচিত।
  • মুদি দোকানে বিস্কুট কার্টনে কেনা হলেও পিস হিসেবে বিক্রি হতে পারে। তাই সেটআপ এমন হওয়া দরকার, যেভাবে আপনি কাউন্টারে বিল করেন।

নতুন দোকান হলে Tukri-তে দোকানের ধরন অনুযায়ী রেডিমেড পণ্যের তালিকা দিয়েও শুরু করা যায়—যেমন মুদি, ফার্মেসি, কাপড়, ইলেকট্রনিকস, হার্ডওয়্যার, রেস্টুরেন্ট। এতে শুরুতে সব কিছু হাতে টাইপ করতে হয় না।

দোকানে SKU আর বারকোডের পার্থক্য কী?

SKU হলো আপনার দোকানের নিজের কোড। বারকোড হলো মেশিনে পড়া যায় এমন কোড, যেটা স্ক্যান করে বিল করা হয়। দুটো এক জিনিস না, তবে দুটোর কাজ কাছাকাছি হতে পারে।

এভাবে ভাবলে সহজ হবে:

  • SKU: নিজের স্টক গোছানো, সাপ্লায়ারের রেফারেন্স, বা গুদামে গোনা সহজ করতে কাজে লাগে।
  • বারকোড: কাউন্টারে দ্রুত বিল করতে কাজে লাগে, কারণ স্ক্যানার সরাসরি এটা পড়ে।

Tukri-তে নাম, SKU বা বারকোড—তিনভাবেই পণ্য খোঁজা যায়। বাংলাদেশে এটা খুব কাজের, কারণ অনেক দোকানে মিশ্র অবস্থা থাকে:

  • ব্র্যান্ডের পণ্যে আগে থেকেই প্রিন্টেড বারকোড থাকে
  • কিছু লোকাল বা খোলা পণ্যে বারকোড নাও থাকতে পারে
  • অনেক দোকানদার নিজের ছোট কোডে পণ্য চিনে রাখেন

কোনো পণ্যে বারকোড না থাকলেও সমস্যা নেই। নাম লিখে বা কুইক প্রোডাক্ট গ্রিডে ট্যাপ করেও বিল করা যায়। তাই বারকোড দিলে গতি বাড়ে, কিন্তু একটা আইটেমে কোড না থাকলে বিক্রি আটকে যায় না।

কাউন্টারে বারকোড স্ক্যান করে পণ্য কীভাবে তুলব?

Tukri POS-এ ইউএসবি বারকোড স্ক্যানার বা ফোনের ক্যামেরা—দুইভাবেই স্ক্যান করা যায়। কোনটা ভালো হবে, সেটা আপনার কাউন্টার, বাজেট আর বিক্রির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে।

১) ইউএসবি বারকোড স্ক্যানার দিয়ে দোকানের সেটআপ

স্থায়ী কাউন্টারের জন্য ইউএসবি স্ক্যানার সাধারণত সবচেয়ে সহজ।

  • যে ডিভাইসে বিল করেন, সেখানে স্ক্যানার লাগান
  • একের পর এক পণ্য স্ক্যান করুন
  • স্ক্যান করা বারকোডের সঙ্গে মিল থাকা পণ্য কার্টে উঠে আসবে
  • পরের আইটেমে একইভাবে চালিয়ে যান

মুদি, ফার্মেসি আর হার্ডওয়্যারের মতো দোকানে এটা খুব ভালো কাজ করে, যেখানে একটানা অনেক আইটেম বিল হয়। লাইনে কাস্টমার থাকলে হাতে টাইপ করার চেয়ে স্ক্যানার সাধারণত দ্রুত, আর বারবার খুঁজতে হয় না।

২) ফোনের ক্যামেরা দিয়ে বারকোড বিলিং

ফোন দিয়েই বিল করলে Tukri-তে ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে বারকোড স্ক্যান করা যায়। এটা কাজে লাগে যখন:

  • আপনি মোবাইল থেকে বিল করেন বা স্থায়ী কাউন্টারের বাইরে বিক্রি করেন
  • দোকান নতুন, তাই শুরুতে আলাদা হার্ডওয়্যার না কিনে কাজ চালাতে চান
  • ইউএসবি স্ক্যানার না থাকলে ব্যাকআপ দরকার হয়

ফোনের ক্যামেরা বেশ কাজের। তবে খুব ব্যস্ত কাউন্টারে অনেক দোকানদার পরে আলাদা ইউএসবি স্ক্যানারই পছন্দ করেন, কারণ সেটা দ্রুত আর আরামদায়ক।

ছোট দোকানে চেকআউট আরও দ্রুত করব কীভাবে?

শুধু স্ক্যানার থাকলেই হবে না; পণ্যের তালিকা পরিষ্কার থাকলে তবেই গতি আসে। স্ক্যান করা কোড যেন প্রতিবার ঠিক পণ্যের দিকেই যায়, সেটাই আসল।

দোকানদাররা সাধারণত এই অভ্যাসগুলো করলে বিলিং দ্রুত হয়:

১. একই পণ্যের ডুপ্লিকেট এন্ট্রি কমান। একই জিনিস তিন নামে থাকলে স্টাফ দ্বিধায় পড়ে। ২. প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টে আলাদা বারকোড দিন। সাইজ, রং, বা ওষুধের শক্তি আলাদা হলে এক স্টকে মিশিয়ে রাখবেন না। ৩. ইউনিট পরিষ্কার রাখুন। পিস, কেজি, বক্স, স্ট্রিপ, বোতল, প্যাক—যেভাবে বিক্রি করেন, সেভাবেই সেট করুন। ৪. স্টাফকে ব্যাকআপ সার্চ শেখান। কোনো বারকোড না পড়লে সঙ্গে সঙ্গে নাম বা SKU দিয়ে তুলতে পারতে হবে। ৫. কাউন্টারের ধাপ সহজ রাখুন। আগে স্ক্যান, তারপর লাইনে বা পুরো কার্টে ছাড়, তারপর পেমেন্ট নিন। ৬. প্রয়োজনে স্প্লিট পেমেন্ট ব্যবহার করুন। এক বিক্রিতে ক্যাশ, কার্ড, ব্যাংক, মোবাইল-ব্যাংকিং আর বাকি—মিশিয়ে নেওয়া যায়, তাই কাস্টমার আংশিক দিলে বিল নতুন করে লিখতে হয় না। ৭. সেল হোল্ড করে পরে চালান। কাস্টমার আরেকটা জিনিস আনতে গেলে কার্ট হোল্ড করে পরের কাস্টমার সামলানো যায়।

বাস্তবে এই ছোট জিনিসগুলোই বড় পার্থক্য আনে। ফার্মেসিতে এক লাইনে দেরি হলে পেছনের সবাই আটকে যায়। মুদি দোকানে একজন স্ক্যান করছে, আরেকজন ব্যাগে পণ্য ভরছে—এমনও হয়। পরিষ্কার বারকোড সেটআপ কাউন্টারকে থেমে থেমে না চালিয়ে মসৃণ করে।

আমি যদি খোলা, ওজনের, বা মেয়াদ-ধরা পণ্য বিক্রি করি?

বাংলাদেশের দোকানে সব পণ্যই এক প্যাকেট এক স্ক্যান এমন না। তাই এখানে ঠিকমতো সেটআপ জরুরি।

এই জায়গায় Tukri কাজে লাগে, কারণ বারকোড বিলিংয়ের সঙ্গে স্টকের নিয়মও মিলে চলে:

  • প্যাক আর লুজ ইউনিট: কার্টন, বক্স, বস্তা হিসেবে কিনে পিস বা কেজি হিসেবে বিক্রি করা যায়; ইউনিট কনভার্সন অটোমেটিক হয়।
  • ব্যাচ আর মেয়াদ ট্র্যাকিং: ফার্মেসি বা মেয়াদওয়ালা গ্রোসারির জন্য ব্যাচ নম্বর আর এক্সপায়ারি ধরে স্টক নেওয়া যায়, আগে মেয়াদ শেষ হবে এমনটা আগে বিক্রি করা যায়, আর কোনগুলো শিগগির শেষ হবে তাও দেখা যায়।
  • স্টকের স্থায়ী হিসাব: কোন স্টক বিক্রি হলো, অ্যাডজাস্ট হলো, ফেরত এলো, বা রিসিভ হলো—সব মুভমেন্ট হিসাব থাকে।

ফার্মেসিতে একটা পরিচিত উদাহরণ হলো বক্স থেকে স্ট্রিপ বিক্রি। মুদি দোকানে বস্তা থেকে কেজি হিসেবে চাল বিক্রি আরেকটা উদাহরণ। তাই শুধু বারকোড স্ক্যান হলেই হবে না; বিক্রির পরে স্টকের হিসাবও ঠিক থাকতে হবে।

কাগজের তালিকা বা হাতে সার্চ কি কোনো সময় যথেষ্ট?

হ্যাঁ, একদম ছোট বা একেবারে নতুন দোকানে শুরুতে হাতে সার্চই যথেষ্ট হতে পারে। পণ্য কম হলে, আর একজনই সব বিল করলে, শুরুতে খুব চাপ নাও লাগতে পারে।

কিন্তু বারকোড বিলিংয়ের আসল লাভ সাধারণত তখন বোঝা যায়, যখন:

  • অল্প সময়ে অনেক কাস্টমার আসে
  • একাধিক স্টাফ কাউন্টারে কাজ করে
  • দেখতে একরকম অনেক পণ্য থাকে
  • দামের ভুল বাড়তে থাকে
  • বিল দ্রুত করার সঙ্গে স্টকও ঠিক রাখতে চান

এই জায়গায় এসে বাংলাদেশের ছোট দোকানের জন্য বারকোড বিলিং অ্যাপ শুধু সুবিধা না, দরকারি টুল হয়ে যায়।

চাইলে Tukri-তে প্রথমে আপনার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্যগুলোতেই বারকোড যোগ করে শুরু করুন। একদিনে পুরো ক্যাটালগ ঠিক করতে হবে না; শুধু দ্রুত বিক্রি হওয়া আইটেমগুলো ঠিক করলেও কাউন্টারের গতি চোখে পড়ার মতো বাড়ে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ছোট দোকানে আলাদা স্ক্যানার ছাড়া ফোনের ক্যামেরা দিয়ে কি বারকোড স্ক্যান করা যাবে?

হ্যাঁ, আপনার POS-এ সুবিধা থাকলে ফোনের ক্যামেরা দিয়েই বারকোড বিলিং করা যায়। Tukri-তে সেভ করা পণ্যের বারকোড ফোনের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করা যায়, তাই নতুন দোকান, মোবাইল থেকে বিল, বা ইউএসবি স্ক্যানার না থাকলে ব্যাকআপ হিসেবে এটা কাজে লাগে।

প্রতিটি পণ্যের জন্য কি SKU আর বারকোড দুটোই লাগবে?

না, প্রতিটি পণ্যের জন্য SKU আর বারকোড দুটোই সব সময় লাগে না। বারকোড কাউন্টারে দ্রুত স্ক্যানের জন্য কাজে লাগে, আর SKU হলো দোকানের নিজের আইটেম কোড; Tukri-তে নাম, SKU বা বারকোড—তিনভাবেই পণ্য খোঁজা যায়।

কাউন্টারে কোনো পণ্যের বারকোড না পড়লে কী করব?

কোনো পণ্যের বারকোড না পড়লে নাম বা SKU দিয়ে আইটেম তুলুন, যাতে বিল থেমে না যায়। Tukri-তে নাম, SKU বা বারকোড—সবভাবেই খোঁজা যায়, তাই বেশিরভাগ পণ্য স্ক্যান হলেও পরিষ্কার নাম আর স্টাফের বেসিক ট্রেনিং দরকার থাকে।

খোলা পণ্য আর মেয়াদওয়ালা আইটেম থাকলে মুদি বা ফার্মেসিতে বারকোড বিলিং কি কাজে লাগে?

হ্যাঁ, মুদি আর ফার্মেসিতে বারকোড বিলিং কাজে লাগে, তবে স্টকের নিয়মও ঠিকমতো সেট করা থাকতে হয়। Tukri-তে প্যাক আর লুজ ইউনিট কনভার্সন আছে, আবার ব্যাচ আর এক্সপায়ারিও ট্র্যাক করা যায়, তাই কেজি হিসেবে চাল বা স্ট্রিপ হিসেবে ওষুধ বিক্রি করলেও হিসাব ঠিক থাকে।

আরও পড়ুন

ব্লগে ফিরুন

আজই শুরু করুন,
দোকান চলুক স্মার্টলি।

মাত্র ২ মিনিটে সেটআপ করুন — কোনো কার্ড লাগবে না।

ফ্রি রেজিস্টার করুন